September 28, 2026, 10:32 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ঈদের নামাজ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—মসজিদে নাকি ঈদগাহে—এ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার কারণে গ্রামের অধিকাংশ মানুষই এবারের ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারেননি।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ কমিটি নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে সকাল সাড়ে ৯টায় জামাত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মন্টু প্রামাণিকের নেতৃত্বে একাংশ আগে থেকেই মসজিদে ঈদের নামাজ শুরু করে দেয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে মাঠে এসে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানানো হলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের কারণে গ্রামের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ মানুষ এবারের ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি।
আহত রুবেল হোসেন অভিযোগ করেন, বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে। অন্যদিকে, জুয়েল নামে অপর পক্ষের একজন দাবি করেন, তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আবহাওয়াজনিত কারণে নামাজের স্থান নিয়ে বিভ্রান্তি থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত নামাজ আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রায় ৫০০ জনের গ্রামটিতে সংঘর্ষের কারণে অন্তত ৪৫০ জন মানুষ নামাজ পড়তে পারেননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।